যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “অনেক দেরি হয়ে গেছে—তার এখনই পদত্যাগ করা উচিত!!!”
সঙ্গে তিনি একটি সংবাদ প্রতিবেদনের লিংকও শেয়ার করেন, যেখানে দাবি করা হয়েছে—পাওয়েল ফেডারেল রিজার্ভের ওয়াশিংটনের সদরদপ্তরের সংস্কার ব্যয় নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে একটি সরকারি আবাসন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ২০১৮ সালে জেরোম পাওয়েলকে ফেড প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প নিজেই। তবে পরবর্তীতে সুদের হার না কমানোর কারণে তিনি পাওয়েলের সমালোচনায় মুখর হন।
পাওয়েলকে সরানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আইনি ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৩৫ সালের যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বলা হয়, স্বাধীন সংস্থার বোর্ড সদস্যদের কেবল “গুরুতর কারণ” ছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরানো সম্ভব নয়।
পাওয়েল নিজেও আগে বলেছিলেন, “প্রেসিডেন্ট যদি আমাকে পদত্যাগ করতে বলেন, তবুও আমি পদত্যাগ করব না।”
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বেশ কয়েকটি স্বাধীন সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করে নজির ভেঙেছেন, যা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান বিল পল্টে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন,
“আমি কংগ্রেসকে অনুরোধ করছি, জেরোম পাওয়েলের রাজনৈতিক পক্ষপাত ও ভুল তথ্যভিত্তিক সিনেট সাক্ষ্য নিয়ে তদন্ত করুক। এটিই প্রমাণ দেবে তাকে সরানোর যথেষ্ট কারণ রয়েছে।”
এদিকে, গত সপ্তাহে সিনেটের সামনে জেরোম পাওয়েল বলেন, ফেড সদরদপ্তরের সংস্কার সংক্রান্ত যেসব খবর বেরিয়েছে, তা “বিভ্রান্তিকর এবং ভুল তথ্যে ভরপুর।”
ট্রাম্প বহুবার দাবি করেছেন, সুদের হার না কমানোর ফলে অর্থনৈতিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। গত এপ্রিলে পর্তুগালে এক বৈঠকে পাওয়েল বলেন, “ট্রাম্পের শুল্কনীতি না থাকলে আমরা আগেই সুদের হার কমিয়ে দিতাম।”
এই মতবিরোধ আরও তীব্র হয় যখন ট্রাম্প ২০২4 সালের নির্বাচনী প্রচারণায় পুনরায় ফেডের নীতিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, “পাওয়েল রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করছেন।”
বর্তমানে জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও পদত্যাগের দাবি ঘিরে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফেডারেল রিজার্ভ এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
