ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরোধিতায় ট্রাম্পকে মামদানির ফোন

Media

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে রাতের আঁধারে পরিচালিত এক অভিযানে আটক করার ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় যাকে তিনি ‘শাসন পরিবর্তনের অনুসন্ধান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তার বিরোধিতা জানাতে তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছেন।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন,“আমি প্রেসিডেন্টকে ফোন করে সরাসরি এই ঘটনার বিরুদ্ধে আমার আপত্তি জানিয়েছি।”

তিনি জানান, তার আপত্তির মূল কারণ হলো শাসন পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেওয়া এমন পদক্ষেপ, যা তার মতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন-এবং যেগুলো সব ক্ষেত্রেই সমভাবে মানা উচিত।

এর আগে মামদানি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ এবং ‘নগ্নভাবে শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, তিনি ওই মার্কিন অভিযানের বিষয়ে অবহিত হয়েছেন এবং মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে নিউইয়র্কে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জেনেছেন।

“একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে একতরফাভাবে হামলা চালানো যুদ্ধের শামিল এবং এটি ফেডারেল ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন,”—বলেন মামদানি। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

মামদানি জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযানের প্রভাব শুধু ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; নিউইয়র্কে বসবাসরত হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান নাগরিকের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

“আমার মূল উদ্বেগ তাদের নিরাপত্তা এবং নিউইয়র্কের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা,”—বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে তার প্রশাসন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলায় একটি ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে এবং দেশটির বাইরে নিয়ে এসেছে। পরে ট্রাম্প জানান, ফেডারেল মামলার মুখোমুখি করতে তাদের নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে।