‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা নির্বাচন আয়োজন করবে অন্তর্বর্তী সরকার’

Media

আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা এবং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক মাইলফলক।’

এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (এএনএফআরইএল) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা জানান।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এএনএফআরইএলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ কথা জানান।

ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সংস্কার কাজে হাত দেয়।

বিএনপিসহ বেশ কিছু দল যতটুকু সম্ভব সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ কিছু দল নির্বাচনের আগে সংস্কার করার পক্ষে মত দেয়।

এমন অবস্থায় বিভিন্ন সময় দেওয়া বক্তব্যে ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের দুটি সম্ভাব্য সময়ের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া নির্বাচন ইতিহাসের সেরা হবে বলে আগেও বলেছিলেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস।

এদিকে বৃহস্পতিবার এএনএফআরইএলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকেও একই কথার পুনরাবৃত্তি করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা এবং দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার এক মাইলফলক হবে।”

এএনএফআরইএল হলো নাগরিক সমাজের একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক, যা এশিয়ায় গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এই নেটওয়ার্ক।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এএনএফআরইএলের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষ করে নাগরিক সমাজের নেতৃত্বাধীন স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কাঠামো পুনর্গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরে। পাশাপাশি বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

এএনএফআরইএলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন এই নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোসালেস, বাংলাদেশ নির্বাচন ও গণতন্ত্র কর্মসূচির পরামর্শক মে বুটয়, প্রচারাভিযান ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম কর্মকর্তা থারিন্ডু অ্যাবেইরাথনা, প্রোগ্রাম কর্মকর্তা আয়ান রহমান খান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আফসানা আমেই।