যুক্তরাষ্ট্রে উড্ডয়নের আগে বিমানে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১৭৯ জন

Media

কলোরাডোর ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের ঠিক আগে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের উড়োজাহাজটি মিয়ামির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ বিকট শব্দ ও আগুন দেখা দেয় প্লেনটির পেছনে। সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের জরুরি স্লাইড ব্যবহার করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার সময় বিমানে ১৭৩ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে ডেনভার থেকে ফ্লাইট ৩০২৩ মায়ামির উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। তবে রানওয়েতে থাকা অবস্থায়ই ল্যান্ডিং গিয়ারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানায় বিমান কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের পেছন থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হচ্ছে এবং যাত্রীরা ইমারজেন্সি স্লাইড দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসছেন।

ডেনভার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। পাঁচজনকে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হলেও কেবল একজনকে সামান্য আঘাতজনিত কারণে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আমেরিকান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজটি পরিদর্শনের জন্য গ্রাউন্ডে রাখা হয়েছে এবং ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা একই দিন সন্ধ্যায় অন্য একটি বিমানে করে মিয়ামির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ঘটনার পর ডেনভার বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে সব আগত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। এর ফলে রাত পর্যন্ত অন্তত ৩০৬টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। তবে বর্তমানে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে আমেরিকান এয়ারলাইনসের আরেকটি ফ্লাইট ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে ডেনভারেই জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়েছিল।

 

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘর্ষে ট্রাম্পের শান্তির বার্তা

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে উভয় দেশকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোতে প্রস্তুত।

শনিবার স্কটল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “উভয় দেশ দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।”

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাইও জানিয়েছেন, তার দেশ নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, তবে কম্বোডিয়ার আন্তরিকতা নিয়ে এখনো তারা সতর্ক।

গত ২৪ জুলাই শুরু হওয়া সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন শুল্ক আরোপের বিষয়টি সামনে এসেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে পণ্য আমদানিতে ৩৬ শতাংশ কর দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে, যদি এর আগে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছানো যায়।

ট্রাম্প এ বিষয়ে বলেন, “আমি বাণিজ্য আলোচনা শুরুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, তবে যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা সম্ভব নয়।”

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের মধ্যে আলোচনার জন্য সহায়তার প্রস্তাব দিলেও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস সাঙ্গিয়ামপংসা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা এখনই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা প্রয়োজন মনে করি না।”

তবে শনিবার কম্বোডিয়া এক বিবৃতিতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানায়।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের হঠাৎ ভূমিকা এবং তার আলোচনার দাবি অনেককেই বিস্মিত করেছে। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শান্তি আলোচনায় তার পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।