যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আবারও উত্তপ্ত ইরান-ইসরায়েল

Media

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের শত্রু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে হলেও থামাতে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সরাসরি হস্তক্ষেপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ হয়, পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূতরা ইরানের পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করে একটি সাময়িক শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করে।

ইসরায়েল তাদের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিলেও ইরান শুরুতে প্রকাশ্যে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, ইসরায়েল যদি আগ্রাসন বন্ধ রাখে, তবেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে ঘোষণা আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তেজনা আবার চরমে ওঠে। ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে আঘাত হানে, যার ফলে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও বিমান হামলা চালায় তেহরানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে।

এই ঘটনার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে ইরান, তাই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি, বরং পশ্চিমা প্রচারে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তার মতে, ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির জন্য আগে থেকেই শর্ত ছিল, আর তা না মানায় তারা নিজেকে চুক্তির অংশ মনে করছে না। ফলে দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিয়ে বিপরীত বক্তব্য দিয়েছে, বাস্তবে যার প্রতিফলন ঘটছে মাঠের সংঘাতে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে এই যুদ্ধবিরতির খবর সাময়িক আশার আলো দেখালেও, হঠাৎ করে আবার সংঘর্ষ শুরুর কারণে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিশ্বশক্তি দ্রুত সংঘর্ষ থামানোর আহ্বান জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তেলের দাম কমেছে এবং স্টক মার্কেটেও সাময়িক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, তবে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই স্থিতিশীলতা আবার অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি থমকে থাকা এক উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। যেখানে দুই পক্ষই ‘যুদ্ধবিরতির’ ঘোষণার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে এবং মাঠের বাস্তবতায় চলছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। ট্রাম্পের প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক চাপের ফলে হয়তো আবার আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা তৈরি হবে, তবে তার আগে প্রয়োজন সংঘর্ষ একেবারে থামানো—অন্তত দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হওয়া পর্যন্ত। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যুদ্ধবিরতি মানেই চূড়ান্ত শান্তি নয়, বরং সেটি হতে পারে বড় কোনো উত্তেজনার আগে স্বস্তির ছোট বিরতি।