ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ ও ক্রেমলিন।
ট্রাম্প নিজেই সামাজিক মাধ্যমে বৈঠকের ঘোষণা দেন। এরপর ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ট্রাম্পকে রাশিয়ায় দ্বিতীয় দফা বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছে।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য— ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করা। আলোচনার আগেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধের ফলে ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় কিছু অঞ্চল বিনিময়ের মাধ্যমে সমঝোতায় আসা যেতে পারে।
তিনি বলেন, "তোমরা এমন এক ভূখণ্ড চাইছো, যা নিয়ে সাড়ে তিন বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। অনেক রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ান প্রাণ হারিয়েছে। আমরা কিছু ফেরত পাবো, কিছু পরিবর্তন হবে—সবই উভয়পক্ষের ভালোর জন্য।"
তবে ঠিক কোন কোন অঞ্চল নিয়ে এই 'বিনিময়'—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়, আলোচনায় একটি খসড়া প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, যেখানে রাশিয়া দনবাস ও ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আর খেরসন ও ঝাপরোজ্জিয়া অঞ্চল ইউক্রেনের কাছে ফিরে যেতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব ভূখণ্ড ছাড়ার প্রস্তাবকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বরাবরই স্পষ্ট করে বলেছেন, "আমরা দখলদারদের এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেব না।"
বৈঠকে ইউক্রেনের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকেও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুর প্রায় তিন বছর পর এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। তবে ইউক্রেনকে বাইরে রেখে কোনো চুক্তি হলে সেটি বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলেও মত তাদের।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে এটাই প্রথম সরাসরি বৈঠক। সর্বশেষ ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে জেনেভায় মুখোমুখি হয়েছিলেন পুতিন।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা এখন তাকিয়ে আছে আলাস্কার দিকে—এই বৈঠক কেবল রাজনৈতিক নাটক, নাকি যুদ্ধ বন্ধের বাস্তব কোনো পথ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া-আজারবাইজান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের নেতাকে একত্রে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় ট্রাম্প এই মুহূর্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “এই শান্তি চুক্তি অনেক সময় নিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করছি।”
চুক্তির আওতায় উভয় দেশ চিরতরে যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আজ আমরা ককেশাস অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছি। বহু বছরের সংঘর্ষ, দখলদারিত্ব ও রক্তপাতের অবসান ঘটেছে।”
চুক্তিটি শুধুমাত্র দ্বিপক্ষীয় শান্তি স্থাপনেই নয়, বরং কৌশলগতভাবে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধির পথও প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুটগুলো খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যা অর্থনৈতিকভাবে অঞ্চলটিকে আরও সংযুক্ত করবে।
