নিউইয়র্কের পশ্চিমাঞ্চলে এক পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বাসটি নায়াগ্রা ফলস থেকে ফিরছিল। যেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নায়াগ্রা ফলস থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৪ কিমি) দূরে একটি মোটরওয়েতে।
বাসটিতে মোট ৫২ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ভারতের, চীনের এবং ফিলিপাইনের নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, অনেক যাত্রী বাস থেকে ছিটকে পড়েন এবং কয়েকজন দুর্ঘটনাস্থলে বাসের ভেতরে আটকা পড়েন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ধারণা করা হচ্ছে, বেশিরভাগ যাত্রী সিট বেল্ট বাঁধেননি।
বাসটি পূর্বমুখী ছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মিডিয়ান অতিক্রম করে পাশের খাঁদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের ট্রুপ কমান্ডার আন্দ্রে রে মেজর জানিয়েছেন, চালকের মাদকাসক্তি বা যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনা ইতোমধ্যে নাকচ করা হয়েছে। বাসচালক তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
দুর্ঘটনাটি ঘটে বাফেলো শহর থেকে প্রায় ৩০ মাইল (৪৮ কিমি) পূর্বে পেমব্রোক শহরের কাছে। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। ভাষাগত জটিলতা নিরসনে অনুবাদক ও অনুবাদ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
যাত্রীদের বয়স ছিল ১ বছর থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, বাসে কয়েকজন শিশু ছিল। একটি স্থানীয় হাসপাতালে ২৪ জন প্রাপ্তবয়স্ককে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অন্য হাসপাতালেও আহতদের ভর্তি করা হয়েছে। ১৬ বছরের নিচে বেঁচে যাওয়া শিশুদের নেওয়া হয়েছে একটি শিশু হাসপাতালে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী পাউয়েল স্টিফেন্স ‘দ্য বাফেলো নিউজ’-কে জানান, তিনি দুর্ঘটনাস্থলে একটি বাস উল্টে পড়ে থাকতে দেখেন, আর চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল যাত্রীদের জিনিসপত্র। “রাস্তাজুড়ে কাঁচ আর ব্যাগপত্র ছড়িয়ে ছিল। বাসের সব জানালা ভেঙে গিয়েছিল। সবাইকে সচেতন মনে হচ্ছিল, তবে আমি খুব অল্প সময়ের জন্যই দৃশ্যটি দেখেছি,” বলেন তিনি।
এই দুর্ঘটনার পর রিজিওনের হাসপাতালগুলোতে রক্ত সরবরাহকারী সংস্থা ‘কানেক্টলাইফ’ জরুরি রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র সারা ডিনা বলেন, “আমাদের কমিউনিটি এখন এক সংকটের মুখে। এই মুহূর্তে আপনার রক্তদান সত্যিই কারো জীবন বাঁচাতে পারে।”
এদিকে, দুর্ঘটনায় বিভিন্ন হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়া শিশুদের তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিয়ে দেওয়ার জন্য রেড ক্রস একটি ‘ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন সেন্টার’ চালু করেছে।
পেন্টাগনের গোয়েন্দা প্রধান বরখাস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফরি ক্রুজকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্ত নেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ক্রুজের পাশাপাশি বরখাস্ত করা হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর রিজার্ভ ইউনিটের প্রধান ও নেভাল স্পেশাল ওয়ারফেয়ার কমান্ডের প্রধানকেও।
বরখাস্তের নির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি একটি স্পর্শকাতর গোয়েন্দা মূল্যায়ন সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফাঁস হওয়া সেই মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছিল, গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার কার্যক্রম মাত্র কয়েক মাসের জন্য থেমে গেছে। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই হামলার পর বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে “সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন” করা হয়েছে।
মূল্যায়ন ফাঁস হওয়ায় হোয়াইট হাউসের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং সেটিকে “ভুল ও বিভ্রান্তিকর” বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। বিষয়টি প্রেসিডেন্টকে ক্ষুব্ধ করে তোলে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে মতভিন্নতা এবং তা গোপন না রেখে বাইরে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিকে ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এই প্রেক্ষাপটেই উচ্চ পর্যায়ের এই বরখাস্তগুলো ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
