স্টিল আমদানিতে শুল্ক দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

Media

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, আমদানি করা স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হবে। যা আগামী ৪ জুন থেকে কার্যকর হবে। তিনি এই ঘোষণা দেন পেনসিলভানিয়ার ওয়েস্ট মিফলিনে ইউএস স্টিলের একটি কারখানায় আয়োজিত এক সমাবেশে।

ট্রাম্প বলেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে মার্কিন স্টিল শিল্পকে আরও সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং বিদেশি প্রতিযোগিতা হ্রাস পাবে। তিনি চীনের স্টিলকে "নিম্নমানের" বলে অভিহিত করেন এবং চীনের বিরুদ্ধে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।

ট্রাম্প ইউএস স্টিল ও জাপানভিত্তিক নিপ্পন স্টিলের মধ্যে ১৪.৯ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। যা ইউএস স্টিলকে আমেরিকান নিয়ন্ত্রণে রাখবে। নিপ্পন স্টিল এই চুক্তির আওতায় পেনসিলভানিয়ার মন ভ্যালি ওয়ার্কসে ২.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং আরও ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে স্টিল মিল আধুনিকায়ন করবে।

এই শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের সেকশন ২৩২-এর আওতায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে, যা প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়।

এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে কানাডা, মেক্সিকো এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রধান স্টিল সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং মার্কিন নির্মাতাদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে স্টিলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রাম্পের দেওয়া শুল্ক আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ আপিল আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত সাময়িকভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত আমদানি শুল্ক বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের "লিবারেশন ডে" নামে পরিচিত ব্যাপক শুল্ক নীতিমালা আপাতত কার্যকর থাকবে।

এর আগে ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত রায় দেয় যে, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন  ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। এই রায়ে বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে পরদিন, ২৯ মে, ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত এই রায়ের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, ফলে শুল্কগুলো আপাতত বহাল থাকে। আদালত কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে কেবলমাত্র মামলার পক্ষগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

আদালত মামলার বাদীদের ৫ জুনের মধ্যে এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে ৯ জুনের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে, যেখানে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই আইনি অনিশ্চয়তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। ইইউ কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে সুবিধাজনক হিসেবে দেখছেন।