২০০ বিলিয়ন ডলারের অধিকাংশই আফ্রিকায় দান করবেন বিল গেটস

Media

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে তিনি তার ২০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের প্রায় ৯৯ শতাংশই দান করবেন। আর এই সম্পদের বেশিরভাগই আফ্রিকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে। ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দপ্তরে একটি ভাষণে দেন এই ঘোষণা তিনি।

বিল গেটস তার এই সম্পদ মূলত আফ্রিকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করবেন। বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু পুষ্টি এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে কাজ করা হবে। এছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন আগামী ২০ বছরের মধ্যে তার সম্পূর্ণ তহবিল ব্যয় করে ২০৪৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম সমাপ্ত করবে।

বিল গেটস তার সন্তানদের জন্য তার সম্পদের মাত্র ১ শতাংশ রেখে দেবেন। বাকি ১৯৮ বিলিয়ন ডলার আফ্রিকার উন্নয়নে ব্যয় করবেন।

বিল গেটস বলেন, ‘আমি সম্প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, আগামী ২০ বছরে আমার সম্পদ দান করব। এর বেশিরভাগই আফ্রিকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যয় করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মাধ্যমে মানব সম্ভাবনাকে মুক্ত করে, আফ্রিকার প্রতিটি দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে।’

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিল গেটস আফ্রিকার উন্নয়নে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলতে চান এবং তার দানের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধানে অবদান রাখতে চান।

 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি নতুন পরমাণু চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যা ইরানকে সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেয়। এই প্রস্তাবটি ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

ইরানকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার অনেক নিচে। ইরানকে তার ভূগর্ভস্থ সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া চুক্তির শর্তাবলীর প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের পর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

ইরান এই প্রস্তাবকে ‘একপাক্ষিক’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা এমন কোনো চুক্তি গ্রহণ করবে না যা তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জনের অধিকার হরণ করে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই প্রস্তাবটি ইরানের কাছে পাঠিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে, ইরানকে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই বিবৃতিটি প্রস্তাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তবে, কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো খোলা রাখতে তারা সম্পূর্ণরূপে আলোচনা বন্ধ করতে চায় না।

এই প্রস্তাব এবং প্রতিক্রিয়াগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আসন্ন দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে।