যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) বাফলোয় এক ইরানি আশ্রয়প্রার্থী পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবেশীদের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরে ওয়েস্ট সাইড এলাকায় ফেডারেল এজেন্টদের নজরদারি চলছে। তারা অভিযোগ করছেন, এক ইরানি পুরুষকে আটক করার চেষ্টা করছে আইসিই। যদিও ওই ব্যক্তির কোনো ফৌজদারি রেকর্ড নেই, কোনো ওয়ারেন্ট নেই এবং তিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
বাফলো কমন কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেত্রী লিয়া হালটন-পোপ বলেন, “তারা সঠিক পদ্ধতিতে এসেছেন। আমার যতদূর জানা, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এখানে এসে আশ্রয় চেয়েছেন। তাদের আটক করার প্রয়োজনীয়তা আমি বুঝতে পারছি না।”
জাস্টিস ফর মাইগ্রান্ট ফ্যামিলিজের নির্বাহী পরিচালক জেনিফার কনর এবং ওয়েস্ট বাফলোর বাসিন্দা ড্রু লুডউইগ জানিয়েছেন, এই পরিবারের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন তারা।
কনরের মতে, পরিবারটি রাজনৈতিক কারণে ইরান থেকে পালিয়ে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকতে চায়।
কনর বলেন, “তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও নতুন সুযোগের খোঁজে বাফেলোতে এসেছে—যেমনটি অনেকেই করে।”
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ফেডারেল এজেন্টরা গ্রান্ট স্ট্রিট ও লাফায়েত অ্যাভিনিউর আশপাশে অচিহ্নিত গাড়িতে অবস্থান করছে, এবং ওই ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে দেখলেই আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি ওয়ারেন্ট ছাড়াই একটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে ICE-এর বিরুদ্ধে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদস্বরূপ একপ্রকার ‘নেবারহুড ওয়াচ’ গঠন করেছেন।
“আমরা একাধিক গাড়ি দেখেছি, ভেতরে রোদচশমা পরা পুরুষেরা বসে থাকেন, জানালায় গাঢ় রঙের কাচ। আমি একজন অভিভাবক হিসেবে এমন পরিস্থিতি একদমই পছন্দ করি না,” বলেন লুডউইগ।
আইসিই এক বিবৃতিতে জানায়, “অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আমরা চলমান বা ভবিষ্যতের অভিযান সম্পর্কে মন্তব্য করি না। আইসিই বুদ্ধিভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করার জন্য, যাদের সম্পর্কে আমরা আগেই জানি।”
স্থানীয় নেতারা এই নজরদারি ও তৎপরতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। “আমি মনে করি, এখানে অভিবাসন নীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা জননিরাপত্তা নিয়ে নয়,” বলেন হালটন-পোপ।
বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল এর জেনিফার বেম বলেন, এই পরিবারকে লক্ষ্য করা সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উত্তেজনার পটভূমিতে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
গত সপ্তাহেই আইসিই জানায়, ১১ জন ইরানি অপরাধীকে তারা গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ রাফিকিয়ান—যিনি একটি বড় চুরির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং নিজেকে ভুয়া আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বাফেলোতেই আটক হন।
“যেসব জায়গাকে একসময় নিরাপদ বলে ভাবা হতো, এখন সেখানেও সরকারের উপস্থিতি বাড়ছে,” বলেন বেম। “আইসিই-এর প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট এবং গোপন আদালত রেকর্ডের কারণে অভিবাসীরা আতঙ্কে থাকেন, আর স্থানীয়রাও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।”
নিউ ইয়র্ক রাজ্য এবং স্থানীয় সরকারের একাধিক প্রতিনিধি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
“সহিংস অপরাধের জন্য দণ্ডিতদের বদলে আইসিই এখন নির্দোষ ব্যক্তিদের গ্রেফতার করছে,” বলেন স্টেট সিনেটর শন রায়ান।
“আমাদের প্রতিবেশীদের শুধুমাত্র শারীরিক গঠন বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু বানানো মেনে নেওয়া যায় না,” বলেন ইরি কাউন্টি আইনপ্রণেতা এপ্রিল বাসকিন।
অ্যাসেম্বলিমেম্বার জন রিভেরা বলেন, “এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিবাসন নীতির অপব্যবহার।”
এই অভিযোগের জবাবে আইসিই-এর একজন মুখপাত্র বলেন, “কারও গায়ের রঙ বা শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছে—এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা।”
