ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

Media

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে একের পর এক আমদানি-শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তিনি নতুন করে কয়েকটি পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান, যা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া ব্র্যান্ডেড বা পেটেন্ট করা ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ, ভারী ট্রাকের ওপর ২৫ শতাংশ, এবং রান্নাঘরের কেবিনেটের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে বাথরুম ভ্যানিটি (স্নানকক্ষের মেকআপ কেবিনেট)-এর ওপর ৫০ শতাংশ এবং কিছু আসবাবপত্রের ওপর ৩০ শতাংশ নতুন শুল্ক কার্যকর করা হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,

ওষুধের ক্ষেত্রে: যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই মূল লক্ষ্য। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদনের কারখানা স্থাপন শুরু করেছে, তাদের ক্ষেত্রে শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।

ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রে: মার্কিন গাড়ি নির্মাতাদের অন্যায্য প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করা। বর্তমানে মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, জার্মানি ও ফিনল্যান্ড থেকে সবচেয়ে বেশি ট্রাক আমদানি হয়। বিশেষত মেক্সিকো থেকে আমদানি ২০১৯ সালের পর থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেবিনেট ও আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে: অতিরিক্ত আমদানির কারণে স্থানীয় শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করছে হোয়াইট হাউস।

ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেছেন, “অন্যান্য দেশ থেকে এসব পণ্যের বড় ঢল যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় উৎপাদকরা ক্ষতির মুখে পড়ছে, তাই আমাদের এই পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।”

এই নতুন সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলে ইতোমধ্যেই নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অব আমেরিকা (PhRMA) জানিয়েছে, নতুন ওষুধ শুল্ক আরোপ ভুল সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত ওষুধের উপাদানের ৫৩ শতাংশ দেশেই তৈরি হয়, বাকি অংশ আসে ইউরোপ ও অন্যান্য মিত্রদেশ থেকে। ফলে অতিরিক্ত শুল্ক স্থানীয় ভোক্তাদের জন্য ওষুধের দাম আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সও ট্রাকের ওপর নতুন শুল্কের বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, মেক্সিকো, কানাডা, জাপান, জার্মানি ও ফিনল্যান্ড—সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এ দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো উচিত, শুল্ক দিয়ে সংকুচিত করা নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। স্থানীয় উৎপাদকরা স্বল্পমেয়াদে লাভবান হলেও ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগ ও আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারগুলোর একটি।

আগামী মাসে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন শুল্ক নীতি মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতি-প্রকৃতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।