যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশ নিতে চায়, তবে তাদের ৬১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে। তবে যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হয়ে যায়, তাহলে এই সুরক্ষা তারা বিনামূল্যে পাবে।
তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ‘কানাডা বিক্রয়ের জন্য নয়’ এবং দেশটি তার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন, সার্বভৌম জাতি এবং সেভাবেই থাকব।’
ট্রাম্পের এই প্রস্তাব কানাডায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কানাডার জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত বব রে ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘প্রটেকশেন র্যাকেট’ বা সুরক্ষা চাঁদাবাজির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এছাড়া রাজা চার্লস তৃতীয় কানাডার পার্লামেন্টে একটি বক্তৃতায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন, যা অনেকেই ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতি একটি সূক্ষ্ম প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিক এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পরিচালিত একটি জরিপে ৮০ শতাংশ কানাডীয় এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন, মাত্র ২০ শতাংশ সমর্থন করেছেন।
এই প্রস্তাব কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি আটকে দিয়েছে মার্কিন আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "লিবারেশন ডে" নামে পরিচিত শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করে তা স্থগিত করেছে। এই রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে এবং এটি মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে।
এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি পথ অনুসন্ধান করতে পারে, যেমন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ বা ২৩২ এর অধীনে নতুন শুল্ক আরোপ। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতের বাণিজ্য নীতিতে কংগ্রেসের ভূমিকা আরও জোরদার করতে পারে।
এই রায় মার্কিন বাণিজ্য নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যতে নির্বাহী ও আইন প্রণয়নকারী শাখার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করতে পারে।
