আগামী বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর বাফলোর নতুন মেয়র শন রায়ান সিটি হলের প্রশাসনে বড় ধরনের পুনর্গঠন আনছেন। এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন চারজন নতুন ডেপুটি মেয়র।
ডেপুটি মেয়র ইউজেনিও রুসি তত্ত্বাবধান করবেন বাফলো পুলিশ বিভাগ এবং বাফলো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কার্যক্রম।
অন্য তিন ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এভাবে—
বেনজামিন সোয়ানেক্যাম্প দেখবেন প্রশাসন ও অর্থনীতি, কর মূল্যায়ন ও সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, জনপথ ও উদ্যান ব্যবস্থাপনা এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনা।
মারিয়া হোয়াইট দায়িত্বে থাকবেন নাগরিক সেবা, কমিউনিটি সেবা, মানবসম্পদ বিভাগ, শ্রমসম্পর্ক বিষয়ক বিভাগ এবং আইন বিভাগ।
টমাস বেইনস তত্ত্বাবধান করবেন কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ এবং পারমিট ও পরিদর্শন সেবা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রায়ান জানান, এই পরিবর্তনের ফলে সিটি হলের কাজ আরও দ্রুত, দক্ষ ও সুসংগঠিত হবে, পাশাপাশি করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের আগত ডেপুটি মেয়ররা স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত ও সম্মানিত নেতা, যাদের রয়েছে বহুমুখী দক্ষতা। তাদের অভিজ্ঞতা সিটি হলের প্রতিটি বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে এবং সেবাকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এছাড়া, গ্যাব্রিয়েল হ্যারিংটন মেয়র–নির্বাচিত রায়ানের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রায়ান আরও জানিয়েছেন, পুনর্গঠনের ফলে সিটি হলের কিছু আগের নিয়োগকৃত পদ বাতিল করা হবে এবং সেই বরাদ্দ নতুন পদগুলোর জন্য ব্যবহার করা হবে।
মাদুরোকে অভিবাসনের জন্য দোষ দিচ্ছেন ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পদত্যাগে চাপ দেওয়া এবং দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দুইটি বিষয়কে দায়ী করেন-ড্রাগস ও অভিবাসী।
গত মাসে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের ভেনেজুয়েলাকে সামলাতে হবে। তারা তাদের কারাগার থেকে লাখ লাখ অপরাধী আমাদের দেশে ঢেলে দিয়েছে।” যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই যে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা অভিবাসীদের বড় অংশ আগে কারাদণ্ড ভোগ করেছে।
মার্কিন প্রশাসন সমুদ্রে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে হামলা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে খুব শিগগিরই ভেনেজুয়েলার স্থলভাগে মাদক কার্টেলবিরোধী সামরিক হামলা শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনকি সীমিত আঘাতও ভেনেজুয়েলায় নতুন করে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও ২০১৭ সালের মতো আরেকটি শরণার্থী সংকট সৃষ্টি করতে পারে—যার জন্য ট্রাম্প নিজেই মাদুরোকে দায়ী করেন এবং যার কারণে হাজারো ভেনেজুয়েলান যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়।
গত মাসে প্রকাশিত নিসকানেন সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য অভ্যন্তরীণ সংঘাত শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ফলে ১৭ লাখ থেকে ৩০ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ছেড়ে পালাতে পারে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে।
আর যদি এ হামলা দীর্ঘমেয়াদি অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে—যা প্রতিবেশী কলোম্বিয়া ও ব্রাজিলের মতো ইতিমধ্যেই চাপের মুখে থাকা দেশগুলোর পক্ষে সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
গবেষণার সহলেখক ও নিসকানেন সেন্টারের ইমিগ্রেশন নীতি বিশ্লেষক গিল গুয়েরা বলেন,
“যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা আতঙ্ক তৈরি করবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেবে। এমন পরিস্থিতিতে গুজব খুব দ্রুত ছড়াতে পারে, যা লোকজনকে পালাতে বাধ্য করবে—বিশেষ করে এমন দেশে, যেখানে প্রায় সবারই বিদেশে বসবাসরত স্বজন আছে।”
তবে গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আঘাত হানে এবং লক্ষ্য থাকে শুধুমাত্র মাদক পাচার অবকাঠামো, মাদুরো সরকারকে অপসারণ নয়, তাহলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে থাকতে পারে।
