যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ বিল পাসে ব্যর্থতা, শাটডাউন শুরু

Media

অর্থবছরের শেষ দিনে প্রশাসনিক ব্যয় সংক্রান্ত বিল নিয়ে একমত হতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে বিলটি পাস হয়নি। ফলে শাটডাউনে পড়েছে মার্কিন সরকার।

বিল অনুমোদন না হওয়ায় স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ছাড় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের সরকারি কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে।

প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সরকার পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দের বিল পাস করতে হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট বাজেটে সই করেন। কিন্তু এ বছর সিনেটে ওই বিল পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পাওয়া যায়নি। বিলের পক্ষে ৫৫ ও বিপক্ষে ৪৫ ভোট পড়ে। ফলে বাজেট অনুমোদিত না হওয়ায় সরকারের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়।

দূতাবাসের ঘোষণা

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় জানিয়েছে, বরাদ্দ ঘাটতির কারণে নিয়মিত আপডেট দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে পূর্ব নির্ধারিত পাসপোর্ট ও ভিসা সেবা অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্পের সতর্কতা ও ছাঁটাই পরিকল্পনা

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, শাটডাউন হলে ফেডারেল সরকারের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে। তার নির্দেশে বাজেট অফিস সরকারি সংস্থাগুলোকে জনবল হ্রাসের পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলেছিল। সাধারণত শাটডাউন চলাকালে অনেক সরকারি কর্মী বেতনহীন ছুটিতে থাকেন।

রাজনৈতিক অচলাবস্থা

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা শাটডাউনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। যদিও কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে, তবু তারা সেনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের সংখ্যা জোগাড় করতে পারেনি। বিলের পক্ষে পড়ে ৫৫, বিপক্ষে ৪৫ ভোট। রিপাবলিকান নেতা জন থুনে ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করলেও দ্রুত সমঝোতার আশা করছেন।

হোয়াইট হাউজ ইতোমধ্যেই শাটডাউনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজেদের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটে ‘ডেমোক্র্যাট শাটডাউন’ শিরোনামে একটি কাউন্টডাউন ঘড়িও চালু করা হয়েছে।

অতীতের নজির

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮০ সালের পর থেকে প্রায় ১৫ বার শাটডাউনের ঘটনা ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময় আটবার, আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় হয়েছিল দুইবার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ সালে দীর্ঘ শাটডাউন হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও শাটডাউনের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে শেষ মুহূর্তে অর্থ বিল পাস হওয়ায় তা এড়ানো সম্ভব হয়।

এবারের শাটডাউনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন সাধারণ মানুষ। অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।