বাফলোতে অগ্নিকাণ্ডে নারী ও শিশুর মৃত্যু

Media

বাফলোর এলমউড ভিলেজের একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন এক ব্যক্তি। সিটি কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাফলো ফায়ার ডিপার্টমেন্ট স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে ৪২৮ নরউড অ্যাভিনিউয়ের বাড়িটিতে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বহুতল বাড়িটির প্রথম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং সেটিই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলেই ২৯ বছর বয়সী এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। ৩০ বছর বয়সী এক পুরুষকে গুরুতর আহত অবস্থায় ইসিএমসি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ভবন ও ভেতরের সামগ্রী মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

বাফলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলা জাতীয় “নো কিংস” আন্দোলনের অংশ হিসেবে বাফলো শহরের নায়াগ্রা স্কয়ারে সমবেত হন হাজারো মানুষ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন দেশজুড়ে ২,৭০০টিরও বেশি স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

ডাউনটাউন বাফলোতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনতার দাবি—আমেরিকার সংবিধান রাজতন্ত্র নয়, গণতন্ত্র নিশ্চিত করে। এক বিক্ষোভকারী বলেন, “যখন সংবিধান আছে, তখন কোনো রাজা নেই—আজ আমরা সবাই সেই নীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছি।”

আরেকজন যোগ করেন, “আমাদের সরকার তিনটি শাখায় বিভক্ত—বিচার বিভাগ, আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাহী বিভাগ বাকিদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, যা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।”

অনেকেই অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “আমি বাকস্বাধীনতায়, সংবিধানে, সংশোধনীগুলোতে বিশ্বাস করি। কিন্তু ট্রাম্প এখন এসবের সবকিছুই লঙ্ঘন করছেন।”

১১৯৯ এসইআইইউ ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ইস্টসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংগঠনও প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেয়। সংগঠনের প্রশাসক শামেকা বারনেট-ম্যাথিউস বলেন, “আমেরিকায় কোনো রাজা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যখাতের বাজেট কাটছাঁটের ফলে চারটির মধ্যে একটি নার্সিং হোম বন্ধ হয়ে যেতে পারে, অনেক হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে। এতে শুধু স্বাস্থ্যকর্মীরা নয়, রোগী ও সাধারণ মানুষ সবাই ভুগবে।”

বিক্ষোভকারীরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে রসিকতা ও সৃজনশীলতার আশ্রয় নেন। কেউ কেউ হাস্যরসাত্মক পোশাক পরে বার্তা দেন, “আমরা শুধু শান্তিপূর্ণভাবে বলতে চাই—ট্রাম্পের বিদায় দরকার।”

একদল বিক্ষোভকারী এমনকি ব্যানার তৈরি করেন এই মর্মে যে, উইলিয়াম ম্যাককিনলির পর ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি হোয়াইট হাউসে কোনো কুকুর রাখেননি।

একজন বলেন, “১৮৯৭ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ম্যাককিনলির পর থেকে সব প্রেসিডেন্টেরই কুকুর ছিল—শুধু ট্রাম্প ছাড়া।”

আরেক নারী মজার ছলে বলেন, “আমাদের হোয়াইট হাউসে কুকুর চাই—সুন্দর, সত্যিকারের কুকুর; মানুষের মতো ‘ডগ’ নয়!”

এদিকে হাজারো বিক্ষোভকারীর ভিড়ে ছিলেন একজন পাল্টা বিক্ষোভকারীও—একজন ট্রাম্প সমর্থক, যিনি সিটি হলের সিঁড়িতে আমেরিকার পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমার দিকে অনেকের চোখ, কিন্তু আমি যা বিশ্বাস করি তার পক্ষে একা দাঁড়াতেও প্রস্তুত। যদি ৫০০ জনের বিপরীতে একজনও হয়, আমি তবু থাকব।”

বিক্ষোভ শেষে নিউজ ৪ যোগাযোগ করে ওয়েস্টার্ন নিউ ইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান নিক ল্যাংওয়ার্থির সঙ্গে। তিনি সংক্ষেপে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিন্ড্রোম’ একটি বাস্তব রোগ।”