টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় ৭৮ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৪১

Media

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আকস্মিক বন্যায় প্রাণ গেল অন্তত ৭৮ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪১ জন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভয়াবহ এই দুর্যোগ সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে কেরি কাউন্টিতে, যেখানে ২৪ শিশু সহ ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীতীরবর্তী একটি খ্রিস্টান মেয়েদের সামার ক্যাম্প ‘ক্যাম্প মিসটিক’। সেখানে থাকা শিশুদের মধ্যে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১০টি মেয়ে শিশু ও একজন কাউন্সেলর।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার ভোররাতে মাত্র ৪৫ মিনিটে গুয়াডালুপে নদীর পানি ২৬ ফুট বেড়ে যায়। সে সময় সবাই ক্যাম্পে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ পানি বাড়ার কারণে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পুরো ক্যাম্প।

নিহতদের মধ্যে আছেন ক্যাম্পটির দীর্ঘদিনের পরিচালক রিচার্ড ডিক ইস্টল্যান্ড এবং বেশ কিছু তরুণ ক্যাম্পার। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সাবেক নেভি সিল গ্রেগ ফ্রোয়েলিক জানান, নদীর ৮ মাইল দূরেও মৃতদেহ পাওয়া গেছে। নদীর পাড়ে ছড়িয়ে আছে জামাকাপড় ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত জিনিসপত্র।

এখনো পরিষ্কার নয় যে ৪ জুলাই ক্যাম্পে মোট কতজন উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের কতজন স্রোতের তোড়ে ভেসে গেছেন।

কের কাউন্টির দৃশ্য এখন এক ধ্বংসস্তূপ—মহাসড়ক ধসে পড়েছে, ঘরবাড়ি ভেঙে গিয়েছে, গাছপালা ও আসবাবপত্র ছড়িয়ে আছে চারদিকে, কিছু এলাকায় পরিষেবা লাইন ও তারের বেড়াও উপড়ে গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কের কাউন্টিকে বড় দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ফেডারেল জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এফইএমএ) সক্রিয়ভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।

রবিবার নিউ জার্সিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমরা টেক্সাসের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। যা ঘটেছে তা ভয়াবহ।" তিনি খুব শিগগির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যেতে পারেন বলে জানান।

এদিকে আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই এলাকায় আরও ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ, যা উদ্ধার কার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্থানীয় মানুষরাও নিজেদের সাধ্যমতো সহায়তা করছেন। কেউ রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, কেউ জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করছেন।

অধিবাসী আলমা গার্সিয়া নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাবার বিতরণ করেছেন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা পেরলা আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য সংগ্রহ করেছেন জামাকাপড় ও জুতা।

ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হয়েছে শোক ও সমবেদনা। রোমে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করেছেন পোপ লিও ষোড়শ।

টেক্সাস এখন শোকের ছায়ায়। নিখোঁজদের খোঁজে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিরন্তর চলছে তৎপরতা। গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত থামবে না উদ্ধার অভিযান। "এই শিশুরা কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না," বলেন তিনি।