পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের উদ্যোগ ট্রাম্পের, যুদ্ধবিরতি নিয়ে মতবিরোধ

Media

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতায় নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে দিনভর বৈঠক করেন তিনি। আলোচনায় উঠে এসেছে যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তা, কূটনৈতিক উদ্যোগসহ সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির নানা দিক।

বৈঠকের ফাঁকেই ট্রাম্প টেলিফোনে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি একটি বৈঠকের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে, এরপর আয়োজিত হবে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেও উপস্থিত থাকবেন। তবে এই বৈঠক কোথায় বা কবে হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত আলোচিত এই বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নেটোর মহাসচিব মার্ক রুট উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা সরাসরি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার গুরুত্বের কথা বললেও, ট্রাম্প তাতে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না যুদ্ধবিরতি কতটা জরুরি।”

অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “আমি কল্পনাও করতে পারি না যে যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো বৈঠক হতে পারে। আমাদের এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।”

বৈঠকে জেলেনস্কিও বক্তব্য রাখেন, তবে আগের মতো এবার তিনি যুদ্ধবিরতির বিষয়টি জোর দিয়ে বলেননি।

ট্রাম্পের উদ্যোগের মধ্যেও সংশয় রয়েই গেছে—পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক আদৌ হবে কি না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের কোনো বৈঠক হয়নি।

জেলেনস্কি বরাবরই পুতিনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখালেও, অনেকের মতে সেটি ছিল কৌশলগত—রাশিয়ার অনাগ্রহ প্রমাণ করার জন্য। অন্যদিকে মস্কো বারবারই পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

তবে এবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, "পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে।" এর মাধ্যমে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলেছে।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর একটি কথোপকথনের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “আমার মনে হয় পুতিন একটা চুক্তি করতে চায়—অন্তত আমার জন্য হলেও। ব্যাপারটা অদ্ভুত শোনালেও আমি এমনটাই অনুভব করি।”

এখন দেখার বিষয়—ট্রাম্পের নেতৃত্বে পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনা আদৌ বাস্তবে রূপ নেয় কি না, আর যুদ্ধবিরতির আগেই কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয় কিনা।