যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর ব্যাপক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে কারফিউ জারি করা হয়। মেয়র ক্যারেন বাস শহরের ডাউনটাউন এলাকায় রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিক্ষোভের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা।
প্রতিবাদকারীরা আইসিই এর অভিযান এবং অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভের সময় হাইওয়ে অবরোধ, আটক কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) ২ দিনে ৩০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৪,০০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য এবং ৭০০ মেরিন সেনা লস অ্যাঞ্জেলেসে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গণতান্ত্রিক নেতারা এই পদক্ষেপকে সংবিধান বিরোধী এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এই সামরিক মোতায়েনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, ডেনভার এবং আটলান্টা। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং মানবাধিকার রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে এই পরিস্থিতি এখনও চলমান, এবং জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
দুই ইসরায়েলি মন্ত্রীর ওপর যুক্তরাজ্যসহ পাঁচ দেশের নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাজ্যসহ পাঁচটি পশ্চিমা দেশ—যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে—ইসরায়েলের দুই মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে আরোপ করা হয়েছে।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, স্মোট্রিচের গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের অন্নহীন থাকার বিষয়টিকে ন্যায়সঙ্গত বলা এবং বেন-গিভির পশ্চিম তীরে সহিংসতায় জড়িত বসতি স্থাপনকারীদের 'নায়ক' হিসেবে অভিহিত করার মতো মন্তব্য স্পষ্টতই ঘৃণ্য। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন এবং মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতির অংশ।
অন্যদিকে, স্মোট্রিচ ও বেন-গিভির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার হুমকি তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তারা দাবি করেছেন, তারা শুধুমাত্র ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কর্তব্য পালন করছেন।
এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে মানবাধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
