নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

Media

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে। বুধবার নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসন, রোহিঙ্গা সংকট এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে সমুদ্রপথে ইতালি অভিমুখী অভিবাসন সংকট। তিনি বলেন, বহু বাংলাদেশি মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ সুগম করতে দুই পক্ষই একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এ সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইতালি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠাবে। এর মাধ্যমে মানবিক ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রেস সচিবের বরাত দিয়ে জানা যায়, ড. ইউনূস বৈঠকে বাংলাদেশ–ইতালি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রস্তাব দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ইতালি–বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেন, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতালি বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে। পাশাপাশি মেলোনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

 

রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সাড়া অপর্যাপ্ত

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সাড়া এখনও অপর্যাপ্ত। মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে প্রত্যাবাসনকেও নিরাপদ মনে করছেন না।

‘রোহিঙ্গা পার্সপেক্টিভস অন পাথওয়েজ টু আ সেফ, ডিগনিফায়েড অ্যান্ড পিসফুল ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আগে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি আলোচিত হবে।

প্রতিবেদনটি জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তর (OHCHR) প্রকাশ করেছে। গবেষণার অংশ হিসেবে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে থাকা ১২৫ জন রোহিঙ্গা পুরুষ ও নারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রোহিঙ্গারা চাইছেন জাতিসংঘ, আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC) সক্রিয়ভাবে মিয়ানমারের পক্ষগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করুন। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র স্থানীয় বা মানবিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

রোহিঙ্গারা চেয়েছেন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি স্থাপন এবং অতীতের সহিংসতার দায় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালত ও বিভিন্ন দেশের কাছে অনুরোধ জানান। তারা মনে করেন, এর জন্য প্রয়োজন আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যাতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয় এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায়।

শরণার্থীরা আরও দাবি করেছেন যে, যে কোনো প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা বা পথনকশা প্রণয়নে শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলছেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতা অপরিহার্য।