হুন্দাই কারখানায় মার্কিন অভিবাসন অভিযানে আটক ৪৭৫

Media

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় হুন্দাইয়ের একটি গাড়ি তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটিই কর্মক্ষেত্রে পরিচালিত সবচেয়ে বড় অভিযান বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, তিন হাজার একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই কারখানাটিতে বৈদ্যুতিক যানবাহন তৈরির কাজ চলছিল। গত এক বছর ধরে সেখানে কর্মরতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন কোরিয়ান নাগরিক। আটক হওয়া প্রায় ৪৭৫ জনের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি দক্ষিণ কোরিয়ান বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে নিজেদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। সিউল থেকে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে কূটনীতিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, বেআইনি কর্মসংস্থানের অভিযোগ ও অন্যান্য গুরুতর ফেডারেল অপরাধের কারণে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে অভিযান চালানো হয়। আটলান্টার হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি কোনো আকস্মিক অভিযান ছিল না। আমরা মাসের পর মাস তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতের অনুমতি নিয়েই অভিযান পরিচালনা করেছি।”

তিনি আরও জানান, এটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইতিহাসে একক কোনো সাইটে পরিচালিত সবচেয়ে বড় অভিযান।

তবে এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের দুটি অগ্রাধিকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে—একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য, অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসন দমন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “তারা অবৈধ অভিবাসী ছিল, আর আইসিই কেবল নিজের কাজ করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, “এই লোকদের অনেকে বাইডেনের সময় অবৈধভাবে এসেছে, এবং তারা আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে।”

অভিযানে ধরা পড়াদের প্রাথমিকভাবে ফোকস্টনের একটি অভিবাসন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে। পরে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে।

হুন্দাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, আটক ব্যক্তিরা সরাসরি হুন্দাইয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী নন।”

কারখানার উৎপাদনে এখনো কোনো প্রভাব পড়েনি, তবে হুন্দাইয়ের অংশীদার কোম্পানি এলজি এনার্জি সলিউশনস সাময়িকভাবে তাদের নির্মাণকাজ স্থগিত রেখেছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কারখানার কর্মীদের লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং তল্লাশি পরোয়ানার কথা জানাচ্ছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “কোরিয়ান কোম্পানি ও নাগরিকদের অর্থনৈতিক অধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প আবারও ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। মার্কিন মাটিতে নির্মাণে উৎসাহ দিতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। অথচ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

জর্জিয়ার গভর্নর এই কারখানাটিকে রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্রায় ১,২০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল।

তবে এখন হুন্দাইয়ের মতো কোম্পানির বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতের বিদেশি বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।