ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের কেরমানশাহ শহরের ফারাবি হাসপাতালে ইসরায়েল সরাসরি হামলা চালিয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন।
বাঘাই বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন করে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে, যা একটি "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।
এ ঘটনায় বিবিসি ঘটনাস্থলের ভিডিও বিশ্লেষণ করে হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা যাচাই করলেও, এটি সরাসরি হামলার লক্ষ্য ছিল কি না—তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সশস্ত্র সংঘাতের সময় কোনোভাবেই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে হাসপাতালগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যাবে না। সেই আইন লঙ্ঘিত হলে তা যুদ্ধাপরাধের শামিল।
ইরানি মুখপাত্র বাঘাই দাবি করেছেন, ফারাবি হাসপাতালে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুতর অবমাননা এবং স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।
‘আয়রন ডোম’-এ আগের মতো ভরসা নেই অনেক ইসরায়েলির
দীর্ঘদিন ধরে ‘আয়রন ডোম’কে নিজেদের জন্য নিরাপত্তার অতুলনীয় ঢাল হিসেবে দেখে আসছিলেন ইসরায়েলিরা। অত্যাধুনিক এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকেই মনে করতেন প্রায় দুর্ভেদ্য।
তবে সম্প্রতি ইরানের টানা তিন দিনের হামলায় সেই বিশ্বাসে দেখা দিয়েছে চিড়। হামলায় যেসব এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। অনেকেই আগের মতো আর ‘আয়রন ডোম’-কে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য ভাবতে পারছেন না।
এদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট কার্যকর ও শক্তিশালী। তবে একইসঙ্গে স্বীকার করছেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়”— কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে।
সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই আস্থার ঘাটতি ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
‘তেহরানের সাধারণ মানুষের ক্ষতি আমাদের উদ্দেশ্য নয়’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, তেহরানের সাধারণ বাসিন্দাদের কোনো ধরনের ক্ষতিসাধনের ইচ্ছা তাদের নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “তেহরানের বাসিন্দাদের শারীরিকভাবে ক্ষতি করার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের নেই।”
তবে এর আগে এক হুঁশিয়ারিতে কাৎজ বলেছিলেন, ইরানে হামলার জবাবে তেহরানের বাসিন্দাদের “মূল্য দিতে হতে পারে”। তার এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিসরে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সমালোচনার প্রেক্ষিতেই এবার নিজ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে কাৎজ জানান, তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর বিরুদ্ধে, সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই পাল্টানো অবস্থান আন্তর্জাতিক চাপ ও জনমত বিবেচনায় কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
