বিবিসির সঙ্গে একান্ত এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর ‘হতাশ’ হলেও, এখনো তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে ইউক্রেন যুদ্ধ, নেটো, যুক্তরাজ্য, ব্রেক্সিট, কানাডা এবং তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও নানা মন্তব্য।
পুতিন ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে হতাশা
ট্রাম্প জানান, পুতিনকে তিনি “বিশ্বাস করেন না”, যেমনটা “প্রায় কাউকেই করেন না”। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি আগামী ৫০ দিনের মধ্যে না হলে, রাশিয়ার ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। যদিও পুতিনের সঙ্গে তার আলোচনা এখনও ‘ফলপ্রসূ’ হওয়ার আশা রাখছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি তার ওপর হতাশ, কিন্তু হাল ছাড়িনি।” তিনি দাবি করেন, বেশ কয়েকবার মনে হয়েছে শান্তিচুক্তি হতে চলেছে, কিন্তু এরপরই রাশিয়া আবার কিয়েভে হামলা চালিয়েছে।
নেটো নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন
একসময় নেটোকে "অচল" বলে সমালোচনা করলেও এখন ট্রাম্প জানান, জোটটি নিজেকে বদলে নিচ্ছে এবং সদস্য দেশগুলো "নিজ নিজ বিল পরিশোধ করছে", যা তাকে খুশি করেছে। তিনি জানান, এখন তিনি নেটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির প্রতি সমর্থন জানান।
হত্যাচেষ্টার এক বছর পর
পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনি প্রচারের সময় তার ওপর চালানো হত্যাচেষ্টার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবিসির সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, এই ঘটনা তাকে বদলে দিয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি ভাবতে চান না। তার ভাষায়, “এটা নিয়ে ভাবলে জীবনই বদলে যেতে পারে।”
যুক্তরাজ্য ও ব্রেক্সিট নিয়ে মন্তব্য
যুক্তরাজ্যকে "মহান জায়গা" আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার সেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তি রয়েছে। ব্রেক্সিট নিয়ে তার মত— "আগে এটি ঢালু অবস্থায় ছিল, এখন তা সোজা হয়ে যাচ্ছে।"
প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে তিনি “পছন্দ করেন, যদিও তিনি একজন উদারপন্থি।” যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ও বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসাও করেন ট্রাম্প।
সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর
এই বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, সফরে তার মূল লক্ষ্য হবে রাজা চার্লসকে সম্মান জানানো ও “ভালো সময় কাটানো”। তবে তিনি চান না সফরকালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।
কানাডা ও রাজা চার্লস প্রসঙ্গে
ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় আছে এবং তিনি আশাবাদী এটি ভালোভাবেই হবে। রাজা চার্লসের পার্লামেন্টে বক্তব্য নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই বলেও জানান তিনি।
নিজের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে
নিজের প্রেসিডেন্সিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন—জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকাকে বাঁচানো”। তার মতে, "এক বছর আগে আমেরিকা ছিল মৃত; এখন এটি আবারও একটি মহান দেশ।"
