যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা কার্যকর হবে আগামী ১ আগস্ট থেকে। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে এই দুই বাণিজ্য অংশীদারের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েনকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা এখন এমন এক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, যেখানে ইইউর শুল্কনীতি ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে তৈরি হওয়া ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।”
এই ঘোষণার পর ইইউ এক বিবৃতিতে জানায়, ১ আগস্টের আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত তারা। তবে ভন ডের লেয়েন জানিয়েছেন, “আমরা প্রয়োজনীয় হলে আনুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্র এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার জন্য। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি বলেন, “আটলান্টিকের দুই তীরের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করার কোনও যৌক্তিকতা নেই।” ডাচ প্রধানমন্ত্রী এক টুইটে বলেন, “ইইউকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যেন একটি ন্যায্য সমঝোতা সম্ভব হয়।”
জার্মানির গাড়ি নির্মাতা সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য অটোমোটিভ ইন্ড্রাস্ট্রি সতর্ক করেছে, শুল্ক বৃদ্ধিতে জার্মান গাড়ি উৎপাদনে ব্যয় অনেক বেড়ে যেতে পারে।
ট্রাম্প একইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা এবং ব্রাজিল থেকেও আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ক আরোপ করবেন। ইতোমধ্যে কানাডাকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মেক্সিকোর ব্যাপারে ট্রাম্প বলেন, দেশটি যথেষ্টভাবে মাদক পাচার বন্ধে কাজ করছে না। তিনি লিখেছেন, “সীমান্ত নিরাপত্তায় মেক্সিকো সহায়তা করছে ঠিকই, তবে তা যথেষ্ট নয়।”
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে আশাবাদী। তবে দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনও আপস নয় বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মেক্সিকোর অর্থ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে 'অন্যায্য' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় থাকা পণ্যগুলোর ওপর নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে কিনা—সে বিষয়ে এখনো কোনও স্পষ্টতা আসেনি।
এদিকে, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আগামী ৯০ দিনে তারা ৯০টি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। তবে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা এসেছে।
