ইরানের কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলের

Media

ইরানের কুদস ফোর্সের একজন শীর্ষ কমান্ডার সাঈদ ইজাদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। শনিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোম শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ইজাদি নিহত হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ইজাদি ছিলেন ইরানের এলিট রেভ্যুলশনারি গার্ডস কর্পসের অন্তর্ভুক্ত কুদস ফোর্সের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বলেন, ‘৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার আগে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তাদের সহায়তা করছিলেন ইজাদি। এই অভিযানে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও বিমান বাহিনী বড় সফলতা পেয়েছে। নিহত ও জিম্মিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের দীর্ঘ হাত শত্রুদের যেখানেই থাকুক, সেখানে পৌঁছাবে।’

সাঈদ ইজাদি কুদস ফোর্সের একজন প্রভাবশালী কমান্ডার ছিলেন। এই ফোর্স ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডস কর্পসের বিশেষ শাখা, যাদের দায়িত্ব বিদেশে ইরানের সামরিক কার্যক্রম ও মিত্রদের সহায়তা দেওয়া। বিশেষ করে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে এই বাহিনীর প্রভাব রয়েছে।

এই হামলা ও ইজাদির মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো সরকারি বা সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে ইসরায়েলি হামলা

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে একাধিক স্থানে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসফাহানের গভর্নরের ডেপুটি সিকিউরিটি অফিসার আকবর সালেহি। শনিবার ভোরে চালানো এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে।

সালেহি জানান, হামলার পর আকাশে সাদা ধোঁয়া দেখা গেলেও কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বা তরল পদার্থ নির্গমনের প্রমাণ মেলেনি। তিনি আরও বলেন, ইসফাহানের রিফাইনারি এই হামলার লক্ষ্য ছিল না।

ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে ইসফাহান, লাঞ্জান, মোবারাকে এবং শাহরেজা শহরের কিছু অংশ। সালেহির মতে, হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত তথ্য জানায়নি, এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহর স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার দাবি

দক্ষিণ লেবাননের নাকৌরা এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শনিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরায়েলের নৌবাহিনী রাদওয়ান বাহিনীর একটি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে, যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হেজবুল্লাহর এই স্থাপনাটি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল।

হামলার ঠিক এক দিন আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হেজবুল্লাহ যদি ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনায় জড়ায়, তাহলে এর ভয়াবহ পরিণতি হবে।’ তার এই বক্তব্যের একদিন পরেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘গতরাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দক্ষিণ লেবাননের নাকৌরা এলাকায় হেজবুল্লাহর রাদওয়ান ইউনিটের একটি সন্ত্রাসী স্থাপনায় আঘাত হানে।’

হামলার পর লেবানন কিংবা হেজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।