নেপালে বিক্ষোভে ১৪ জন নিহত, কারফিউ জারি

Media

নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী কাঠমাণ্ডুসহ বিভিন্ন শহর। জেনারেশন জি বা ‘জেনজি’ নামে পরিচিত তরুণদের এই আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট এবং পরবর্তীতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শুধু সিভিল সার্ভিস হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে শতাধিক আহত ব্যক্তি, যাদের অধিকাংশই রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর দীপক পাউডেল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার বিকেলে কাঠমাণ্ডুর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকা নিউ বানেশ্বর, সিংহ দরবারের আশপাশ এবং মাইতিঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজারাম বাসনেত জানিয়েছেন, জেলা নিরাপত্তা কমিটির সুপারিশে আইন-২০২৮ অনুযায়ী সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা সোমবার সকালে মাইতিঘরে জড়ো হয়ে নতুন বানেশ্বরের ফেডারেল পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে সংঘর্ষ বাধে, এবং বিক্ষোভকারীরা ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনার জেরে বিকেলে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বুধবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

কাঠমাণ্ডু ভ্যালি পুলিশ অফিসের মুখপাত্র শেখর খানাল জানান, “নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারী— উভয় পক্ষেই আহতের সংখ্যা রয়েছে। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে।”

নেপালের যোগাযোগমন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র পৃথ্বী সুব্বা গুরুং হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বিবিসিকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, "সরকার কিছু একটা করবে।"

দেশটির সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদেই শুরু হয় এই তরুণপ্রজন্মের আন্দোলন। মূলত ডিজিটাল স্বাধীনতা রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছে ‘জেনজি’ প্রজন্ম। আন্দোলনকারীরা সরকারের এই পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আখ্যা দিচ্ছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে। কারফিউ জারি থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি।

 

জেরুজালেমে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ৫, গুরুতর আহত ৭

জেরুজালেমে সশস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্যারামেডিক ও ইসরায়েলি পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে জেরুজালেমের উত্তর শহরতলী রামত জংশনে। পুলিশ জানায়, সেখানে একটি বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে লক্ষ্য করে দুই বন্দুকধারী গুলি চালায়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, হামলাকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও একজন বেসামরিক ব্যক্তি দ্রুত পাল্টা গুলি চালিয়ে হামলাকারীদের থামাতে সক্ষম হন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—তিনজন ৩০ বছর বয়সী তরুণ, একজন ৫০ বছর বয়সী পুরুষ এবং একজন ৫০ বছর বয়সী নারী।

এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার না করলেও, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এই হামলার প্রশংসা করেছে।

ঘটনার পরপরই এলাকাটিতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলও কাজ শুরু করেছে, যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত বিপদের আশঙ্কায়।

দএই হামলা এমন এক সময়ে ঘটলো যখন ইসরায়েল ও গাজা পরিস্থিতি আগেই উত্তপ্ত, এবং বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা হুমকি বেড়ে চলেছে।