মোসাদের সদরদপ্তরে আগুন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি তেহরানের

Media

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম একাধিক ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ–এর একটি কার্যালয়ে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। তাসনিম জানিয়েছে, এটি ইরানের রেভ্যল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) পরিচালিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফল।

তাদের দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স একটি “কার্যকর সামরিক অভিযানে” মোসাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা স্থাপনায় আঘাত হানে, যদিও ইসরায়েল কঠোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অধিকারী।

তাসনিমের টেলিগ্রাম পোস্টে বলা হয়েছে, “সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বাহিনী মোসাদের সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।”

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি দেশটির সংবাদমাধ্যমেও কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি— কারণ, ইসরায়েলে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা নিয়ে সংবাদের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে।

মোসাদ, ইসরায়েলের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৯ সালে—ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দেড় বছর পর। সংস্থাটি বাইরের হুমকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে আসছে।

এই হামলার দাবি যদি সত্যি হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পারদ আরও বাড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধবিরতি নয়, চাই স্থায়ী সমাধান: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার ক্ষেত্রে কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং চান “একটি সত্যিকারের সমাপ্তি”। তার ভাষায়, এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানই হবে মানবতার পক্ষে সেরা পথ।

ঘটনার পঞ্চম দিনে, তাকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,“একটি সত্যিকার সমাপ্তি। যুদ্ধবিরতি নয়। একটি স্থায়ী সমাধান।”

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এখনো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার বিষয়ে কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে তিনি চান, ইরান একটি চুক্তিতে সম্মত হোক যা এই উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখবে।

তার পোস্টে তিনি লেখেন, “তারা যদি আলোচনায় বসতে চায়, তারা জানে কীভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। আলোচনা টেবিলে যে চুক্তি রয়েছে, সেটিতে স্বাক্ষর করলেই বহু প্রাণ রক্ষা পাবে।”

চলমান ইসরায়েল-ইরান দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন উদ্বিগ্ন, তখন ট্রাম্পের এই বার্তা—কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তার আগ্রহ এবং কঠোর নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।