দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো বিদেশে স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন করেছে জার্মানি। চলতি মাসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে ৪৫তম সাঁজোয়া ব্রিগেডের উদ্বোধন করেন। এই ব্রিগেডটি ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫,০০০ জার্মান সেনা ও ২০০ বেসামরিক কর্মচারী নিয়ে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে।
এই স্থায়ী মোতায়েন জার্মানির "সাইটেনভেন্ডে" বা "সময়ের পরিবর্তন" নীতির অংশ। এটি ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ঘোষিত হয়। এই নীতির মাধ্যমে জার্মানি তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে এবং ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ এবং বেলারুশের সীমানায় অবস্থিত। ন্যাটোর পূর্ব ফ্ল্যাঙ্কে একটি কৌশলগত স্থান। জার্মানির এই মোতায়েন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
এদিকে লিথুয়ানিয়া সরকার এই ব্রিগেডের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যমান ন্যাটো ব্যাটালিয়নকে এই নতুন ব্রিগেডে একীভূত করা হবে।
এই মোতায়েন ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জার্মানির ভূমিকার একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে এবং ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করবে।
জার্মানির রেলস্টেশনে হামলায় আহত ১৭
জার্মানির হামবুর্গের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনে এক নারীর ছুরি হামলায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ছয়জন গুরুতর আহত এবং সাতজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে হালকা।
হামলাটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে প্ল্যাটফর্ম ১৩ ও ১৪-এর মাঝে ঘটে, যেখানে যাত্রীরা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ৩৯ বছর বয়সী জার্মান নারী অভিযুক্তকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি একাই এই হামলা চালিয়েছেন এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পরপরই জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। হামবুর্গের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার কারণে স্টেশনের চারটি প্ল্যাটফর্ম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এই হামলাকে "ভয়াবহ" বলে অভিহিত করেছেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি হামবুর্গের মেয়র পিটার টসেন্টশারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেন।
পুলিশ হামলাকারীর মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। হামবুর্গের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন একটি নিরস্ত্র এলাকা হিসেবে ঘোষিত, যেখানে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ। এই ঘটনার পর জার্মানির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
