পাকিস্তানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৬

Media

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের কয়েকটি শহরের অন্তত ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা নয়, বরং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। ভাওয়ালপুরে জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান কার্যালয় এবং মুরিদকে শহরে লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রধান কার্যালয়সহ নয়টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।

তবে পাকিস্তান এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি রাফাল, একটি এসইউ-৩০ এবং একটি মিগ-২৯ রয়েছে।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল ভারতের কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তান এই হামলার জন্য দায়ী এবং কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা এই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছেন এবং দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ঘটনার পর পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি জরুরি বৈঠকে বসেছে এবং পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এদিকে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারতীয় পক্ষ থেকে তিনটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় পড়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে, তবে পাকিস্তানের দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ভারতীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে এবং তিনজন পাইলট আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের পাল্টা হামলায় ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের হামলায় পাকিস্তানে ২৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৬ জন আহত হওয়ার তথ্য জানায় পাকিস্তান।

পাকিস্তান তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং উভয় দেশের সীমান্ত অঞ্চলে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।