কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ পর্যটক নিহত

Media

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, যেখানে হামলা হয়েছে সেটি একটি বিস্তৃত তৃণভূমি। ওই স্থানটিতে শুধুমাত্র ঘোড়া অথবা পায়ে হেটে যাওয়া যায়। সকালে সেখানে পর্যটকদের একটি দল গিয়েছিল। ওই সময় তাদের ওপর হামলা হয়।

জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ নিহতের সংখ্যা নিরূপণ করা হচ্ছে বলেন, বেসামরিকদের ওপর এখন পর্যন্ত আমরা যেসব হামলা দেখেছি সেগুলোর তুলনায় এটি অনেক বড়।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে অমিত শাহ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে তিনি একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।

বার্তাসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, হামলাস্থল ছিল পাহালগামের বৈসারান তৃণভূমিতে। সেখানে একটি রিসোর্টের কাছে হামলার পর অনেকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ভারী অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত অস্ত্রধারীরা পাহাড়ের ওপরের তৃণভূমির গাছপালা আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে। তারা ৪০ জনের একটি পর্যটক দলকে ঘিরে ফেলে। এরপর এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে।

পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অস্ত্রধারীরা যখন গুলি চালানো শুরু করে, তখন স্থানীয়রা, যারা পর্যটকদের কাছে মালামাল বিক্রি করেন, তারা নিরাপদস্থানে সরে যান। এতে করে শুধুমাত্র পর্যটকরা গোলাগুলির মাঝে পড়েন। তখন তাদের ওপর নির্বিচার গুলি ছোড়া হয়।

পর্যটকদের ওপর যে হামলা হয়েছে তার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা টিআরএফ নামক একটি সশস্ত্র সংগঠন এর পেছনে থাকতে পারে।

টিআরএফ পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তাইবা'র ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্বশাসিত এলাকার মর্যাদা দিয়েছিলো ৩৭০ ধারা। কিন্তু ২০১৯ সালে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার তা প্রত্যাহার করে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ওই ধারা বাতিলের পর থেকেই টিআরএফ অনলাইনে প্রোপাগান্ডা চালাতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সক্রিয় 'জঙ্গি' সংগঠনে রূপ নেয়।

ভারত সরকার ২০২৩ সালে এই সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

ভারত সরকারের টিআরএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ— টিআরএফ কাশ্মীরের তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে, অনলাইনে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ায় এবং অস্ত্র চোরাচালানের সাথে জড়িত।