গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনার পর সম্ভাব্য একটি চুক্তির পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসে তিনি বলেন, আলোচনায় একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আলোচনার বিস্তারিত জানাননি। তবে তিনি ও ন্যাটো—উভয় পক্ষই বৈঠকটিকে “অত্যন্ত ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে এই আলোচনা হয়।
সপ্তাহজুড়ে কড়া বক্তব্য দিয়ে ট্রান্সআটলান্টিক জোটে অস্বস্তি তৈরি করার পর ট্রাম্প বলেন, এই বৈঠক একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। তবে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো চুক্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। যদিও তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
বুধবার ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন,“গ্রিনল্যান্ড এবং পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যৎ একটি চুক্তির কাঠামো আমরা তৈরি করেছি। এই সমাধান বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সব দেশের জন্যই দারুণ হবে।”
তবে বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগী সিবিএসকে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড—যা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল—এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা দেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।
ট্রাম্প আরও জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি তার কাছে আলোচনার অগ্রগতি জানাবেন।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এক বিবৃতিতে বলেন, “দিনটি যেভাবে শুরু হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক ভালোভাবে শেষ হচ্ছে।”
তিনি যোগ করেন, “এখন আমাদের বসে দেখতে হবে—ডেনমার্ক রাজ্যের সীমারেখা সম্মান রেখে কীভাবে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান করা যায়।”
পরবর্তী সময়ে কিছু তথ্য সামনে আসে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে সুইস আল্পাইন রিসোর্টে বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, সম্ভাব্য চুক্তিতে খনিজ সম্পদের অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এ ছাড়া তিনি বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষায় প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউরোপীয় মিত্ররাও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানের পাশাপাশি দ্বীপটিতে বিরল খনিজের বিশাল ও এখনো প্রায় অনাবিষ্কৃত ভাণ্ডার রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। এসব খনিজ মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়িসহ আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
