মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সব বিমান ইরানের আকাশসীমা থেকে সরে গেছে।
এরপর আরও একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ফোর্দো ইজ গন”— অর্থাৎ, ‘ফোর্দো শেষ’।
ইরানের স্বীকারোক্তি ও প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের পক্ষ থেকেও হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট তিনটি স্থাপনায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের কওম প্রদেশের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের মুখপাত্র মোর্তেজা হায়দারি বলেন, “ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি অংশ বিমান হামলার শিকার হয়েছে।”
ইসফাহানের ডেপুটি গভর্নর আকবর সালেহি জানান, “নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আমরা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি সরাসরি হামলার দৃশ্যও দেখেছি।”
ইরান জানিয়েছে, হামলার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব পারমাণবিক স্থাপনা খালি করে ফেলা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপ-রাজনৈতিক পরিচালক হাসান আবেদিনি সরাসরি সম্প্রচারে বলেন, “হামলার ঠিক আগেই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো খালি করা হয়েছিল। যদি ট্রাম্পের কথা সত্যও হয়, বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।”
মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিভাজন
হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহৃত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কয়েকদিন আগেই এই বিমানগুলো মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ গুয়ামে সরিয়ে নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়, যা তখন থেকেই সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত দেয়।
তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র মতভেদ।
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “তিনি সঠিক কাজটি করেছেন। ইরানের সরকার এটারই যোগ্য।”
রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুমকি হ্রাস করতে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।
অপরদিকে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর থমাস ম্যাসি এই হামলাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছেন।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা জ্যাকবস একে “অন্তহীন যুদ্ধের পথে টেনে নেওয়ার মতো বিপজ্জনক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন।
সংঘাতের সূচনা
ঘটনার সূত্রপাত হয় ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের অভিযানে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে। তার পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের ওপর বিমান হামলা চালায়।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৩০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের পাল্টা হামলায় তাদের বেশ কয়েক ডজন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর ইরানের ভূখণ্ডে এত বড় আক্রমণ আর কখনও হয়নি। বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধাবস্থার মত পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
