বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি হলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

Media

ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র “খুবই কঠোর পদক্ষেপ” নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষের সহিংস দমন–পীড়নে এ পর্যন্ত ২,৪০০–এর বেশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি-যাকে গত সপ্তাহে আটক করা হয়—তার স্বজনরা বিবিসি পারসিয়ানকে জানিয়েছেন, বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও–এর এক প্রতিনিধি বিবিসিকে বলেন, “এত দ্রুত কোনো মামলার নিষ্পত্তি আমরা আগে কখনও দেখিনি।”

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সিবিএস নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্ভাব্য ফাঁসি নিয়ে বলেন,

“যদি তারা ফাঁসি দেয়, তাহলে আপনারা কিছু বিষয় দেখতে পাবেন… এমনটা হলে আমরা খুব শক্ত পদক্ষেপ নেব।”

সোলতানির এক স্বজন বিবিসি পারসিয়ানকে জানান, ইরানের একটি আদালত মাত্র দুই দিনের মধ্যেই “অত্যন্ত দ্রুত প্রক্রিয়ায়” মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে।

হেঙ্গাও–এর প্রতিনিধি আওয়ার শেখি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে ইরান সরকার “মানুষকে দমন ও ভয় ছড়াতে তাদের জানা সব কৌশল ব্যবহার করছে।”

অন্যদিকে, ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্স–কে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা প্রায় ২,০০০, তবে এর জন্য তিনি “সন্ত্রাসীদের” দায়ী করেন।

এর আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকে যোগ দেবেন এবং বিক্ষোভে নিহতের “সঠিক সংখ্যা” বের করার অঙ্গীকার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যেও তারা এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১২ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫০ জন সরকার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন বলে দাবি সংস্থাটির।

হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “হত্যাকাণ্ডটি বড় পরিসরের বলেই মনে হচ্ছে, তবে নিশ্চিতভাবে আমরা এখনও জানি না।”

তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্য পাওয়ার পর **“সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”