নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ দাবি ট্রাম্পের

Media

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ডিজিটালি সম্পাদিত ছবিতে নিজেকে ভেনেজুয়েলার “ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট” বলে দাবি করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্প এই দাবি তোলেন।

বাস্তবে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব গঠিত হয়েছে দেশটির সুপ্রিম ট্রাইব্যুনাল অব জাস্টিস এবং সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে-কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে নয়।

ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প যে সম্পাদিত ছবিটি পোস্ট করেছেন, তা উইকিপিডিয়ার একটি অফিসিয়াল পাতার আদলে তৈরি। সেখানে তার সরকারি প্রতিকৃতির নিচে লেখা রয়েছে—“Acting President of Venezuela।”

এছাড়া ট্রাম্প রসিকতার ছলে কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কো রুবিওর নামও উল্লেখ করেন। এমন দাবি থাকা একটি পোস্ট তিনি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “Sounds good to me.”

মাদুরো আটক হওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে

প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার লক্ষ্যে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম ট্রাইব্যুনাল অব জাস্টিস সংবিধানগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেয়।

৩ জানুয়ারি মাদুরো আটক হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে “পরিচালনা” করবে, যাতে “তেল প্রবাহ স্বাভাবিক করা যায়।” পরে রোববার, ৪ জানুয়ারি, তিনি ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলার “দায়িত্বে” রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে “তেল কোয়ারেন্টিন” অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হলেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভেনেজুয়েলার প্রশাসন চালানোর ইচ্ছা পোষণ করছে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে ফেডারেল অভিযোগে মাদুরোর হাজিরা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। তিনি নিজের আটককে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘন বলে দাবি করে যাচ্ছেন।