যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ও তার চীনা বন্ধু শি জিনপিং বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়ে এক বছরের একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প আরও বলেন, চীনের ওপর আরোপিত ফেন্টানিল-সম্পর্কিত পণ্যের শুল্ক ১০ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রায় ছয় বছর পর দুই নেতার সরাসরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন ট্রাম্প, “বিরল খনিজ নিয়ে সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে, এবং এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তিটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং প্রতি বছর নবায়ন করা হবে।“
শি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিস্তারিতসহ একটি যৌথ বিবৃতি দেব, তবে যদি বৈঠকটিকে ০ থেকে ১০ স্কেলে মাপি, আমি বলব এটি ১২!”
তিনি আরও জানান, “আমি আগামী এপ্রিলে চীন সফরে যাব, আর প্রেসিডেন্ট শি আসবেন এর পর—হয় ফ্লোরিডা, পাম বিচ কিংবা ওয়াশিংটন ডিসিতে।”
ট্রাম্প বলেন, “অনেক বিষয়েই আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছি,” এবং শি জিনপিংকে ‘একজন অসাধারণ নেতা এবং অত্যন্ত শক্তিশালী দেশের কর্ণধার’ বলে প্রশংসা করেন।
গত সেপ্টেম্বর দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। উভয় পক্ষই একে অপরকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার জন্য দোষারোপ করেছিল, দুই নেতার বৈঠকের আগমুহূর্তে।
বিরল খনিজ উপাদান একটি কৌশলগত খাত, যা প্রতিরক্ষা, অটোমোবাইল এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিকস শিল্পের জন্য অপরিহার্য — এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে চীনের নিয়ন্ত্রণে। ফলে বিষয়টি আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
এই মাসের শুরুতে চীন বিরল খনিজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। জবাবে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সব চীনা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা শনিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে এই পদক্ষেপে নতুন করে আরেকটি ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
পরে ট্রাম্প কিছুটা নরম সুরে বলেন, ১০০ শতাংশ শুল্ক “টেকসই নয়”, এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে বিরল খনিজ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
চীনের বিরুদ্ধে ফেন্টানিল পাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র মার্চ মাসে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। ট্রাম্প এবার তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ফেন্টানিল এক ধরনের শক্তিশালী সিন্থেটিক ওপিওয়েড, যা যুক্তরাষ্ট্রে মাদকসংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
বেইজিং অবশ্য দাবি করেছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, এবং শুল্ক আরোপ কোনোভাবেই এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে না।
এক বছরের এই নতুন সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন কিছুটা শিথিল করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি কেবল “একটি অস্থায়ী বিরতি, স্থায়ী সমাধান নয়।”
