ইরানে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা, শীর্ষ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত

Media

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর চালানো হামলায় দেশটির শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৩টার পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইরানি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে, তবে ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল হুসেইন সালামি নিহত হন। এছাড়া ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরিও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমানবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির আলি হাজিজাদেহ ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের শীর্ষ বিমানবাহিনী কর্মকর্তারা একটি আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে বৈঠক করছিলেন, যেখানে তারা ইসরায়েলের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ওই বাঙ্কারে হামলা চালিয়ে হাজিজাদেহসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করে।

এই হামলায় কমপক্ষে ২০ জন শীর্ষ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে মেজর জেনারেল গোলামালি রাশিদ (আইআরজিসি উপপ্রধান) এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানী ফেরিদুন আব্বাসি-দাভানি ও মোহাম্মদ মাহদি তেহরাঞ্চিও অন্তর্ভুক্ত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন হামলার কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে। হামলার পর ইরান সরকার প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম রাইসি বলেছেন, "ইসরায়েলকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "এই হামলা ইরানের জনগণকে ভয় দেখাতে পারবে না।"

ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইসরায়েলের আগ্রাসন একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে যা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দিচ্ছে।"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হামলার পর বলেছেন, "ইসরায়েলের হাত খুনে রাঙানো, তারা আর বাঁচবে না।" তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং ইসরায়েলকে তার অপরাধের জন্য শাস্তি দেবে।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান আগেই ইসরায়েলকে কঠিন প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে রেখেছিল। বিশ্ব নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই উত্তেজনা নতুন নয়। গত ১১ মাসে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের অন্তত ১০ শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের সূচনা হতে পারে।