তানজিদের সেঞ্চুরি ও বোলারদের তাণ্ডবে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

Media

তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি আর বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল রাজশাহীর হাতেই।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৪ রান। দলের হয়ে অনন্য উচ্চতায় ওঠেন তানজিদ হাসান তামিম। বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৬১ বলে সেঞ্চুরি করে ৭টি ছক্কা ও ৬টি চারের সাহায্যে ৬২ বলে ১০০ রান করেন তানজিদ। এটি ছিল তাঁর বিপিএল ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি—বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

ইনিংসের শুরুতে শাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে ১০.২ ওভারে ৮৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে ফিরলেও, এরপর কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ রানের কার্যকর জুটি গড়ে রাজশাহীর ইনিংসকে এগিয়ে নেন তিনি। উইলিয়ামসন ২৪ রান করে আউট হন। শেষ দিকে অধিনায়ক শান্ত ৭ বলে ১১ রান যোগ করেন। চট্টগ্রামের হয়ে মুকিদুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।

১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ১৭.৫ ওভারে ১১১ রানে গুটিয়ে যায়। ওপেনার মির্জা বেগ সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন, আর আসিফ আলী করেন ২১ রান। তবে বাকিদের কেউই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি।

রাজশাহীর বোলিং আক্রমণ ছিল বিধ্বংসী। বিনুরা ফার্নান্দো মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন। হাসান মুরাদ নেন ৩টি এবং জেমস নিশাম দখল করেন ২টি উইকেট।

এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএলের শিরোপা জিতল রাজশাহীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। এর আগে ২০১৯ সালে রাজশাহী রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। অন্যদিকে ফাইনালে উঠে আবারও শিরোপা অধরাই রইল চট্টগ্রামের—এর আগে ২০১৩ ও ২০১৫ মৌসুমেও রানার্সআপ হয় তারা।